কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫ এ ০৭:০০ PM

কলেজের ইতিহাস

কন্টেন্ট: পাতা

কলেজ পরিচিতি

পটভূমি : মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অর্ধ শতকেরও আগে 1959 সালে নারী শিক্ষার পথকে সুগম করতে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার এই মহা উদ্যোগে ব্রতী হয়েছিলেন ময়মনসিংহ শহরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তাশীল ও উদারচিত্ত মহৎপ্রাণ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব। তাঁদেরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থায়ন, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে কলেজটি পূর্ণাঙ্গরুপ পরিগ্রহ করে। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মহৎপ্রাণ ব্যক্তি জনাব এ আর খান তার মা মুমিনুন্নিসার নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সিংহভাগ দান করেন এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা প্রদান করেন। গণ্যমান্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হয়। তৎকালীন জনশিক্ষা পরিচালক জনাব মোঃ শামছুল হক 1959 সালের 29 জুলাই কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। শিক্ষা প্রদানের মহানব্রত নিয়ে তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন কর্তব্যে একনিষ্ঠ বলিষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ। কলেজটিতে 1961 সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। 1963 সালে এটি ডিগ্রী কলেজে উন্নীত হয়। 1980 সালের 1 মার্চ কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। 1998-99 শিক্ষাবর্ষ থেকে 6টি বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং 2001-2002 শিক্ষাবর্ষ থেকে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু করার ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন আছে। 2006-2007 শিক্ষাবর্ষ হতে আরো তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। 2012-2013 শিক্ষাবর্ষ হতে উদ্ভিদ বিদ্যা বিষয়ে এবং 2013-2014 শিক্ষাবর্ষ হতে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। 2016-2017 শিক্ষাবর্ষ হতে পদার্থ ও রসায়ন বিষয়ে অনার্স কোর্সে ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের মেধা মননের প্রতিফলনে ফলাফল প্রাপ্তিতে রয়েছে কাঙ্খিত কৃতিত্ব। যার ব্যাপ্তি স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া বিষয়ক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের পদচারণা জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজটি 1997 সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব অর্জন করে। 1998 সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ মহোদয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পুরস্কার লাভ করেন। 2011 সালের ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত আন্ত:কলেজ ক্রীড়া ও খেলাধুলা প্রতিযোগিতায় ভলিবলে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও ব্যাডমিন্টন (দ্বৈত)- এ রানার্স আপ পুরস্কার লাভ করে। 2022 সালে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবু তাহের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধানের পুরস্কার লাভ করেন। 2023 সালে অত্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জুলফিকার হায়দার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (কলেজ পর্যায়ে) নির্বাচিত হয়েছেন। অত্র কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আনুষ্কা চক্রবর্তী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন। এভাবেই সম্মিলিত প্রয়াসে উত্তরোত্তর সুনাম অর্জনে কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাকেই বহন করে চলেছেন কলেজ প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনকে সহায়তা, শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখা এবং শিক্ষকদের দাবী ও অধিকারকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে এই কলেজে রয়েছে একটি শক্তিশালী শিক্ষক পরিষদ। শিক্ষার্থীর মেধার গুণগত মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে সম্পৃক্ত সমস্ত কার্যক্রমকে চলমান ফলপ্রসূ করায় এ পরিষদের সদস্যবৃন্দ সবসময় কার্যকর ভূমিকা পালনে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

ভৌগোলিক অবস্থান: উত্তরে গারো পাহাড়, দক্ষিণে মধুপুর ভাওয়ালের বনাঞ্চল, পশ্চিমে যমুনা নদী আর পূর্বে সুরমা-ধনু মেঘনার প্রবাহ সীমার মধ্যে রৌদ্র ছায়ায় লীলায়িত বিচিত্র ভূভাগ ময়মনসিংহ। এককালে উপমহাদেশের বৃহত্তম জেলা হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ আজ আর আয়তনের দিক থেকে বৃহৎ না থাকলেও পাহাড়, বন, সমতল ভূমি, হাওর ও নদ-নদীর বিচিত্র ধারা মিলে যে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এ জেলায় রচিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। উর্বরা ভূমি, শস্য ও মৎস্যের প্রাচুর্য্যের মতই এ জেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি এক অন্যন্য সাধারণ আভায় ভাস্বর হয়ে আছে। ব্রহ্মপুত্র নদ বিধৌত যে পলল মাটিতে একদা ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র জন্ম হয়েছিল, যে ব্রহ্মপুত্রের তীরে ঝলসে উঠেছিল ঈশা খাঁর শাণিত তরবারি, যে ভূমিতে গড়ে উঠেছিল গণ সংগ্রামের এক গৌরবময় ঐতিহ্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্মৃতিধন্য ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেষে গড়ে উঠা সেই ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে, এককালে ‘কেশব বাবুর বাংলো’ নামে পরিচিত টাউন হলের মোড়ে প্রতিষ্ঠিত এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটির হোল্ডিং নং-78, ক্ষিতীশ রায় রোড, ময়মনসিংহ সদর, ময়মনসিংহ।

অবকাঠামো: 6.47 একর ভূমির উপর একটি দ্বিতল ভবনে এ কলেজের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে আরো দুটি ত্রিতল ভবন সংযোজিত হয়। সম্প্রতি আরও দুইটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবনগুলোতে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। দুর-দুরান্তের ছাত্রীদের পড়াশুনার সুবিধার্থে একটি তিন তলা ও একটি চার তলা ছাত্রী নিবাস নির্মিত হয়। ছাত্রীদের আবাসনের সুবিধার্থে তাপসী রাবেয়া হলের একটি টিন শেড এনেক্স ভবন হয়েছে। আরেকটি পাঁচ তলা হোস্টেল নির্মাণের কাজ চলছে। ছাত্রীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত হোস্টেল সুপারের জন্য একটি টিনশেড পুরনো বাড়ি আছে। এছাড়াও অধ্যক্ষ মহোদয়ের জন্য কলেজ চত্বরে একটি বাসস্থান রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস), বি.এ/বি.এস.এস/বিএসসি শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাসের জন্য 35টি কক্ষ রয়েছে। প্রত্যেকটি অনার্স বিভাগ সেমিনার কক্ষসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের জন্য প্রত্যেক বিভাগে একটি করে পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরী আছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য একটি পৃথক আইসিটি ল্যাব রয়েছে। কলেজের প্রতিটি বিভাগ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম দ্বারা সমৃদ্ধ। অধ্যক্ষ মহোদয়ের কক্ষের পাশাপাশি উপাধ্যক্ষ, প্রধান সহকারী ও হিসাব বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক কক্ষ রয়েছে। তাছাড়া রয়েছে পৃথক আইসিটি সেল।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন